Home / ফেইসবুক কর্নার / ৩৯তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারদের কিছু কথা?

৩৯তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারদের কিছু কথা?

৩৯তম বিসিএস এর মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসের স্বাস্থ্য ক্যাডারে যারা নিযুক্ত হবার আহ্বান পেয়েছেন সবাইকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। তার সাথে বড়ভাইয়ের কিংবা পিতৃতুল্য শিক্ষক হিসেবে কিছু কথা প্রথমেই বলেরাখি। ফেসবুকে নবীনদের অনেক আক্ষেপ, অাকুতি দেখেই এই বক্তব্য।

১.মানুষের ইতিহাস কাকুতি মিনতি, দয়াদাক্ষিণ্যের ইতিহাস নয়,সংগ্রামের ইতিহাস,বিজয়ীর ইতিহাস। তাই কাকুতি মিনতি না করে অধিকার অাদায়ের চেষ্টা করবে।

২. যাদের ২০-২৫ হাজার টাকার চাকুরির অতি প্রয়োজন তাদের এ পেশায় আসা ঠিক হয়নি।এখানে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে চাকুরির সাথে কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশুনা, ট্রেনিং করতেই হবে।বেসরকারি যারা তারা এটাকাটাও পাবে না।

৩. যারা এসেছেন অথচ আক্ষেপ করছেন বা করতে থাকবেন সুযোগ থাকলে বিকল্প পথ খোঁজ করে চলে যান। আপনারা মেধাবী অতএব আপনাদের জন্য পথখোলা। এখন আর বয়সের বার থাকলো না।

৩.পেশায় পেশাদারীত্ব থাকতে হবে। পেশাকে ভালোবেসে আত্মহত্যা করা বুদ্ধিমান মানুষের কাজ না।
আপনি গ্রাজুয়েট, সকল পেশাতেই আপনি ফিট।

৪. এই পেশা অন্য পাঁচ দশটি পেশার চেয়ে ভিন্ন। এখানে দক্ষতা, যোগ্যতা এমনকি জ্ঞান অর্জন করতে ১৫-২০ বছর লেগে যায়,অনেক পরীক্ষা দিতে হয়, ট্রেনিং করতে হয়, সিনিয়র এর বকা শুনতে হয়, গুরুভক্তির প্রয়োজন হয় — এগুলো আপনি আমি না চাইলেও এদেশে বাস্তবতা।এগুলো ভালো না লাগলে আপনি বা আপনার অভিবাবক এসব জানবার পরেও কেন আসবেন এপথে?

৪. ক্ষমতা থাকে সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়ে সিস্টেম পাল্টান। কিন্ত আপনার পোশাক, ভাষা,ব্যবহার, ব্যাক্তিত্ব অবশ্যই চিকিৎসক এবং অফিসার সুলভ হতে হবে। ইদানীং অনেকেই অশ্লীল শব্দে ভরা ভাষা ব্যবহার করছেন এটা কাম্যনয়।এতে গোটা পেশারই বদনাম হচ্ছে। লাভ কিছুই হয়নি। ভদ্র হতে খরচ নাই।

৫. তবে এ পেশা কঠিন, আফটার অল মানুষের জীবন। প্রতিটি মানুষ বাঁচতে চায়,একবছর, একদিন, একঘন্টা, একমিনিটও বেশি বাঁচতে চায়।কাজটি করা সহজ নয়, তাও আবার আমাদের মত দেশে যেখানে হাসপাতালে হাজারো নাই,নাই——– এটিই চিকিৎসক এর দায়।

৬. আমি পূর্বেও বলেছি, “”যে সমাজে জীবনের মূল্য যত বেশি সে সমাজে চিকিৎসক ততবেশি সম্মানিত””।

ভাবুন আপনার দেশে আপনি কতটুকু সম্মান পাবেন। তবে এ-ও সত্যি, সম্মান এমনিতেই আসেনা। মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা,কর্ম, সততা, নিষ্ঠা,ভালোবাসা, ন্যায়পরায়ণতা,সেবা এবং আপনার ব্যবহার তথা আচরণ দিয়ে অর্জন করতে হবে।
“” সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যাঁরে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সেবে — সর্বক্ষন।।””

একজন বিধান রায় কিংবা দেবী শেঠি কত সম্মানের একবার ভাবুন!!

আমি এই পেশার জ্যেষ্ঠ একজন সদস্য হিসাবে অনুজদের প্রতি এই উপদেশসহ আশীর্বাদ করে সবার মঙ্গল কামনা করছি।
কল্যাণ হোক সকলের।।

অধ্যাপক ডাঃ কে,সি,গাঙ্গুলী
K-36/DMC/79-84

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভাবনা ক্লাব সিলেটে-২

আজিজুস সামাদ ডন: (পূর্ব প্রকাশের পর) সঞ্চালক মহোদয় একটু নড়েচড়ে বসে বললেন, তাহলে আমার গল্পটা ...