Home / Breaking News / হবিগঞ্জ ৪ আসনে কে হবে নৌকার মাঝি?

হবিগঞ্জ ৪ আসনে কে হবে নৌকার মাঝি?

Habigoni 4. jpg

সংবাদ পরিক্রমা ডেক্স: একাদশ জাতীয় সংসদে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের তরুণ প্রার্থীদের দিকেই মনোযোগ বেশি হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের ভোটারদের। সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত এ আসনটি পরিচিত আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সমালোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষন শুরু হয়েছে। হবিগঞ্জ ৪ আসনে কে হবেন নৌকার মাঝি তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদ ও পুজা উপলক্ষে পত্র-পত্রিকায় এবং শুভেচ্ছা কার্ড ছাপিয়ে সাধারন জনসাধারনের মধ্যে প্রচারনা শুরু করেছেন।

তবে মানুষের মাঝে একটি গুঞ্জন রয়েছে হবিগঞ্জ মাধবপুরের কৃতিসন্তান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সপ্তম গভর্নর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন হতে পারেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার মাঝি। তবে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লিখা হয়েছে তিনি সিলেট-১ নির্বাচন করতে পারেন। সূত্রে জানা যায় তিনি নির্বাচন করলে হবিগঞ্জে করবেন, আর নেত্রী চাইলে সিলেটে করবেন।

দুই উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার প্রায় চার লাখ ২২ হাজার ৬২৩ জন। এর মধ্যে চুনারুঘাট উপজেলায় রয়েছে দুই লাখ তিন হাজার ৩৩১ ভোটার ও মাধবপুর উপজেলায় রয়েছে প্রায় দুই লাখ ১৯ হাজার ২৯২ ভোটার।

১৯৭৯ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মুহিবুল হাসান। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন দুটিতে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির আলোচিত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল। এ ছাড়া ১৯৭০ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত অন্য সব নির্বাচনে এ আসন থেকে জিতেছেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী। সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরহুম এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এ আসন থেকে ছয়বার আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে এ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোটামুটি নিশ্চিত হলেও দলটির একাধিক তরুণ প্রার্থী রয়েছেন মাঠে। মনোনয়নের প্রত্যাশায় চালাচ্ছেন প্রচার প্রচারণা। চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক মেয়র মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ মুসলিম, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতু, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রয়াত এনামুল হক মোস্তফা শহীদের পুত্র বিশিষ্ট শিল্পপতি নিজামুল হক রানা, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, মাধবপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, শ্রম ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল হাই’র পুত্র আরিফুল হাই রাজিব।

মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ মো. মুসলিম ইতিমধ্যে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এ আসনে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন ।

সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রয়াত এনামুল হক মোস্তফা শহীদের ছেলে নিজামুল হক রানা তিনিও বিভিন্ন দিকে পোস্টার-লিফলেট লাগিয়ে মাঠে রয়েছেন। বাবার ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন। রানা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের দিকেই আমাদের দৃষ্টি। জননেত্রী যাকে নৌকার মাঝি করবেন আমরা তার জন্যই কাজ করবো।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর চুনারুঘাটের বাসিন্দা সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক, তরুণ আইনজীবী ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনও এলাকার উন্নয়নে নিজ অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ২৫টি ঝূঁকিপুর্ন রাস্তা ও তিনটি কাঠের তৈরী ব্রিজ এর কাজ সম্পন্ন করেছেন। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তিনিও আশা প্রকাশ করেন আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে।

সামনে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মাত্র আর কয়েকদিন । এখন শুধু অপেক্ষার পালা কে হচ্ছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার মাঝি।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জব্বার

ছুটির দিনেও ভেজাল প্রতিরোধে ভোক্তা অধিকারের হানা, জরিমানা ৪৫ হাজার

সংবাদ পরিক্রমা ডেক্স: রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ/পণ্য বিক্রি, পণ্যের গায়ের মুল্য তালিকা ...