Home / ফেইসবুক কর্নার / স্মৃতির মুকুরে

স্মৃতির মুকুরে

অঞ্জনা দত্ত: অনেক বৎসর পর ডঃ সবিতা চৌধুরী নিজ দেশে ফিরলেন৷ সকাল থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরে যাচ্ছে। শুনেছে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে৷ বাংলাদেশে উপকূলবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানার কথা। ব্যালকনিতে বসে বৃষ্টি দেখতে দেখতে ডঃ সবিতা চৌধুরী ফিরে গেলেন আজ থেকে ৪৮ বছর পূর্বে। ভাগ্যের ফেরে তাঁকে এদেশ থেকে চলে যেতে হয়েছিল অগ্নিঝরা ১৯৭১ সালে। বলা ভাল চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। মনের মানুষের থেকে সাড়া পাননি৷ সেদিনটির কথা ভাবলে আজও সবিতা চৌধুরীর বুকের ভিতর রক্তক্ষরণ হয়। সেদিনটির কথা মনে হলে আজও তার সব কেমন যেন এলোমেলো হয়ে পড়ে। সেদিন যদি সেই মানুষটি যাকে তার অদেয় কিছুই ছিল না, একটিবার তার কথা শুনত, একটিবার তার কথা ভাবত তাহলে আজ সবিতার জীবন অন্যরকম হতো৷ সবার অলক্ষ্যে চোখের জল ফেলতে হতো না৷ সুপ্রতীমের প্রতি অবিচার করতে হতো না৷ আজ কক্সবাজারে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। শুধু কক্সবাজার কেন, সারা দেশে নিম্নচাপের প্রভাবে অবিরাম ধারায় বৃষ্টি ঝরে পড়ছে। বৃষ্টি ঝরছে সবিতার অন্তরের অন্তঃস্থলে। এক একেক সময় মন এত অশান্ত হয়ে ওঠে নিজের ওপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে! আচ্ছা ! নির্মল কী আগে থেকেই জানত তার জীবনের পরিণতি এমনই হবে? সেজন্যই কী নির্মল সেদিন তার সঙ্গে দেখা করতে আসেনি? ও চেয়েছিল সবিতা একটি পরিপূর্ণ জীবন পাক? যে অসম যুদ্ধের জন্য নির্মলরা প্রস্তুতি নিচ্ছিল পাকিস্তানি জানোয়ারদের বিরুদ্ধে, সেখানে তাদের পদে পদে কঠিন লড়াই এর সম্মুখীন হতে হতো৷ তাই হয়তো বা নির্মল চায়নি সবিতাকে তার অনিশ্চিত জীবনের সঙ্গে জড়াতে৷

হায়! ছেলেরা কত কম জানে মেয়েদের সম্পর্কে! ওদের ধারণা মেয়েরা চায় নিরাপদ জীবন৷ বিত্ত, বৈভব। তারাও যে চায় ভালোবাসার জনের সঙ্গে হোক বা যে কোন পুরুষের সঙ্গে হোক, যার ওপর ভাইয়ের মত নির্ভর করা যায় তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। কলেজে পড়ার সময় ওরা কী ছেলেদের সঙ্গে মিছিকে যায়নি! তখন তো কোন অসুবিধে হয়নি৷ হ্যাঁ! মুক্তিযুদ্ধ ছিল অনেক বড় ক্যানভাসে৷ ওটা হয়তো বা এত সহজ ছিল না মোকাবেলা করা। তাই বলে একটি বারের জন্যও নির্মল পারত না ওর সঙ্গে দেখা করতে? কে জানে! সেদিন যদি নির্মল আসত তাহলে হয়তো বা এভাবে প্রাণ দিতে হতো না! না, তাই বা কী করে হয়? সবিতা যে আর দশজনের সামনে নির্মলকে ছোট করতে পারত না! সবিতা চেয়েছিল নির্নলকে ওর সমস্যার কথা জানিয়ে তার সমাধান চাইতে। কিন্তু সে সুযোগ নির্মল তাকে দিল না৷ আর সবিতা অভিমানে চলে গেল অজানা অচেনা সুপ্রতীমের হাত ধরে সাত সমুদ্র তের নদীর তীরে।

সুপ্রতীম সবিতার কোন ইচ্ছে অপূর্ণ রাখল না৷ পড়াশোনায় মেধাবী দেখে ওখানে আন্ডারগ্রেডে ভর্তি করিয়ে দিল৷ সাথে চলল গান শেখা৷ বাসররাতেই বলবে না বলবে না করেও সুপ্রতীমকে নির্মলের নির্মল ভালবাসার কথা জানাল৷ সুপ্রতীম বুকের গভীরে দীর্ঘশ্বাস চেপে কথা দিল কখনও সবিতার ওপর জোর খাটাবে না৷ এও বলল মুক্তিযুদ্ধের পর যদি নির্মলকে খুঁজে পায় সবিতাকে ওর কাছে পাঠিয়ে দেবে৷ সবিতা কেঁপে উঠেছিল৷ মৃদুস্বরে বলেছিল তার দরকার নেই৷ একটু সময় চেয়ে নিয়েছিল সুপ্রতীমের থেকে৷ সে আজ চার যুগ আগের কথা৷ চার যুগে কত জল বয়ে গেল টেমসে, গঙ্গায়, পদ্মায়, মেঘনায়…

সেই কবেকার কথা! আজও যেন সবিতা চৌধুরী স্পষ্ট দেখতে পান সেদিনটি। যেদিন প্রথম দেখেছিলেন নির্মল সেনকে। সেদিনও ছিল প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টির ছাঁটে দৃষ্টিসীমার মধ্যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ত তারা দুজনেই৷ সবে স্কুল ছেড়ে কলেজে ঢুকেছে৷ সবার মধ্যে একটা উড়ু উড়ু ভাব৷ স্কুল ছিল ভিন্ন। নির্মল এসেছিল মফঃস্বল থেকে৷ তবে অল্পদিনেই টিচারদের, ছাত্রদের নজর কেড়েছিল সে তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে৷ স্যাররা নির্মল বলতে অজ্ঞান ছিল। বন্ধুরা যারা পড়াশোনায় কিছুটা হলেও সিরিয়াস ছিল তারাও নির্মলের ছায়া হয়ে থাকত। এরমধ্যে কিছু মেয়েও ছিল৷ তখন অবশ্য ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি ছিল না৷ যে কয়েকজন ছিল তারাও নির্মলের গুণগ্রাহী হয়ে পড়ল। তবে সবিতা প্রথম থেকেই নির্মলকে সহ্য করতে পারত না৷ তার একটি অন্যতম কারণ ছিল নির্মল ছিল সাদাসিধা ধরণের ছাত্র৷ চুলে তেল দিয়ে আসত৷ মাথার মাঝখানে সিঁথি কাটত। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা তাকে সাদা পায়জামা ও হাওয়াই সার্টের বাইরে কেউ কিছু পড়তে দেখেনি। শীতকাল বাড়তি একটি কালো সোয়েটার দেখা যেত সার্টের ওপর৷ দিন গড়িয়ে যেতে লাগল৷ কলেজে নবীনবরণ উৎসব পালিত হলো। ভরাট গলায় নির্মল যখন গেয়ে উঠল “ওকে ধরিলে তো ধরা দেবে না, ওকে দাও ছেড়ে দাও ছেড়ে… “। সমস্ত হলে পিনপতন নীরবতা। আর সবিতা কিছুক্ষণ পরপর কেঁপে কেঁপে উঠছিল। এই ছেলেটিকে সবিতা ডেকে বলেছিল ” “গেঁয়ো ভূত!” সেই গেয়ো ভূত আজ সজোরে সবিতার গালে চপেটাঘাত করল? সবিতার অন্তত তাই মনে হলো। দিন কয়েক আগে সবিতা লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে বের হয়ে আসছিল। সাথে ছিল জনা কয়েক স্তাবক। কী কথা নিয়ে বলতে বলতে ওরা বের হচ্ছিল। হাসির গমকে একজন অপরজনের গায়ে ঢলে পড়ছিল। সেইসময়ে নির্মল লাইব্রেরিতে ঢুকতে যাচ্ছিল। আর ধাক্কা খেল সবিতার সঙ্গে। সবিতা পড়ে যেতে যেতে নিজেকে সামলে নিল৷ যেইমাত্র দেখল সামনে দাঁড়ান নির্মল অমনি সবিতা কর্কশ গলায় চেঁচিয়ে উঠল ” গেঁয়ো ভূত! দেখে চলতে পার না? ” সবিতার বলার ভঙ্গিতে ওর বন্ধুরাও চমকে উঠল। নির্মল স্যরি বলে পাশ কাটিয়ে চলে গেল।

সেই সবিতা এখন নির্মলের গান শুনতে শুনতে লজ্জায় যেন মাটির সাথে মিশে যেতে চাইল। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল দুফোঁটা চোখের জল৷ তাড়াতাড়ি করে মুছে নিল কেউ দেখার আগে। সবার অনুরোধে নির্মল গেয়ে উঠল ” তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা, মম শূন্যগগনবিহারী…. তুমি আমারি, তুমি আমারি মম অসীম গগনবিহারী… “। সবিতার মনে হলো বুক ভারী হয়ে উঠছে৷ শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে… ইচ্ছে করছিল ছুটে পালাতে অডিটোরিয়াম হতে। কিন্তু পালাবে কোথায়? এরপর যে সবিতার পালা গান করার। এতখানি বয়েসে সবিতা কখনও এতটা আড়ষ্ট বোধ করেনি। ওর পা যেন চলছিল না৷ নির্মলের গানের পর বুঝতে পারছিল না কী গান করবে! কিছুই মাথায় আসছিল না৷ কী ভেবে গেয়ে উঠল রজনীকান্তের গান

“তুমি নির্মল করো, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে
তব পূণ্য-কিরণ দিয়ে যাক মোর মোহ – কালিমা ঘুচায়ে… ”
কী আবিষ্ট হয়ে গাইল সেদিন সবিতা! সবাই এতদিন ধরে শুনছে ওর গান। কখনও এভাবে গানের মাঝে ডুবে যেতে দেখেনি৷ এ যেন নির্মলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়। প্রতিযোগিতা সবিতার নিজের সঙ্গেই।

এরপর কলেজ দেখল অন্য এক চিত্র। সবিতা আর নির্মল ছাড়া যেন কোন অনুষ্ঠান সম্পূর্ণতা পায় না। সবিতা অবশ্য ক্ষমা চেয়েছিল নির্মলের কাছে সেদিনকার আচরণের জন্য। নির্মল হেসে উড়িয়ে দিল। হেসে হেসে বলল আমি তো প্রথম দিন ই বুঝেছিলাম মহারানির রাগ একটু বাড়াবাড়ি রকমের বেশি! কী আর করা? এই নিয়েই কাটাতে হবে। ‘মানেটা কী?’ চোখ পাকিয়ে জিজ্ঞেস করল সবিতা৷ সেটি তুমি বুঝে নাও তোমার যেমন ইচ্ছে। খুনসুটি, গল্প, ভবিষ্যৎ নিয়ে রঙিন স্বপ্নে বিভোর থাকা দুটো হৃদয় যে কখন যে এক হয়ে গেল নিজেরাও বুঝে উঠতে পারেনি। বুঝল যখন নির্মল সব ছেড়েছুড়ে অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ল৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই সবিতা বাড়ি থেকে বের হতে পারছিল না। আর নির্মলের তখন ধ্যান জ্ঞান সবকিছু দেশ নিয়ে। কীভাবে পাকিস্তানিদের মোকাবিলা করবে সেটি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করছে৷ এখন সবিতা তার জীবনের কোন প্রায়োরিটিতে নেই৷ মনে পড়লেও জোর করে একপাশে সরিয়ে রাখে৷ যাতে করে কোনরকমের দুর্বলতা তাকে দেশের কাজ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে না পারে।

এদিকে সবিতা বহু চেষ্টা করে ওদের এক ক্লাসমেটকে দিয়ে চিরকুট পাঠাল নির্মলকে। খুব রিকোয়েস্ট করল যেন পরেরদিন সন্ধ্যাবেলায় গীর্জার কাছে বকুলতলায় যেন আসে৷ ভীষণ প্রয়োজন৷ চিরকুটটি পেয়ে নির্নল ম্লান হাসি হাসল৷ ওর এখন সময় কোথায়? ও দেশমায়ের কথা শুনবে নাকি প্রেয়সীর? কেউ কারও চেয়ে কম নয়৷ তবে এখন যে মাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। লিখল সবিতাকে ‘… তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে স্বাধীন বাংলার মাটিতে। অপেক্ষা করো৷ এখন যে কাজ হাতে নিয়েছি তা যে পারব না সরিয়ে অন্যদিকে মন দিতে। লক্ষ্মীটি! বুঝতে চেষ্টা করো। ‘ চিঠিটি পেয়ে সবিতা ভেঙ্গে পড়েছিল। খুব কান্নাকাটি করছিল৷ দেশের এই পরিস্থিতিতে ওর বাবা ঠিক করল মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেবে৷ পাত্র ওদের পরিচিত। লন্ডনে থাকে৷ সেই সময়ে অবস্থাপন্ন হিন্দুরা মেয়েরা একটু বড় হলেই কোলকাতায় পাঠিয়ে দিত৷ মেয়ে যদি সুন্দরী হয় তাহলে তো কথাই নেই। সেই হিসাবে সবিতার অনেক আগেই কোলকাতায় চলে যাওয়ার কথা। নেহাৎ একমাত্র মেয়ে হওয়ায় বাবা এতদিন আগলে রেখেছিলেন। কাছছাড়া করেননি৷ কিন্তু এখন আর ভরসা করতে পারছেন না। বাসার সামনে আজকাল প্রায় অপরিচিত লোকজন হঠাৎ হঠাৎ করে দেখতে পেতেন। তাই তিনি মেয়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেললেন বিলেতে থাকা সুপ্রতীমের সঙ্গে।

খবরটি নির্মল জেনেছিল৷ কিছুক্ষণের জন্য আনমনা হয়ে পড়েছিল। ওতো রানিকে লিখেছিল৷ ও পারল না একটু ধৈর্য ধরতে? বাবা মাকে বোঝাতে? ছেলেরা চিরদিন মেয়েদের ভুল বুঝেই এসেছে৷ ওরা সব সময় মুদ্রার এক পিঠই দেখে থাকে। অপর পিঠ কখনো দেখে না৷ দেখতে চায় না৷ ১০ই মার্চ অনাড়ম্বর ভাবে সবিতার বিয়ে হয়ে গেল৷ ১৯ শে মার্চ সবিতা চিরদিনের জন্য এই দেশের মাটি ছেড়ে অপরিচিত এক সুপ্রতীমের সঙ্গে নিজের ভাগ্য জড়িয়ে শুকনো খটখটে চোখে বাবার বাড়ি থেকে বের হয়ে এল। সবিতার মা কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। বাবা মেয়ের আচরণে হতবাক৷ মনে মনে বললেন মারে একদিন বুঝবি তোর বাবা কেন একাজ করেছিল! সেদিন তোর আর এই হতভাগ্য বাবাটার ওপর কোন কষ্ট থাকবে না। আর নির্মল? অসম্ভব দৃঢ় মনোবলের ছেলেটি মনে মনে গুমড়ে কেঁদেছিল। বাইরে ছিল হাসিখুশি৷ সংগঠনের কাজ করে গেল। দুইদিনের জন্য গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে এল৷ বাবা মাকে বলে এল তেমন অবস্থা দেখলে যেন তারা ভারতে চলে যান৷ ওর জন্য যেন অপেক্ষা না করে৷ ওর ব্যবস্থা ও ঠিকই করে নেবে। মুসলিম লীগের নেতাদের যেন এড়িয়ে চলে। বোনকে যেন সামলে রাখে। যতটা সম্ভব যেন সাবধানতা অবলম্বন করে৷

এদিকে ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রহসনের আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করে চলছিলেন৷ বঙ্গবন্ধু বুঝেও অন্য কোন পথ নিতে পারছিলেন না৷ কেননা তাহলে তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসাবে চিহ্নিত করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত৷ যদিও সেই কাজটিই তারা করেছিল। ২৫ শে মার্চ রাত এগারোটার দিকে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার, জগন্নাথ হল, তৎকালীন ইকবাল হল, পুরান ঢাকা, রমনা কালিবাড়ি, শহীদ মিনার সব গুঁড়িয়ে দিল। পাকিস্তানিদের সব রাগ যেন ছিল এগুলোর ওপরে৷ নির্মল তখন তার বন্ধুদের নিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিতে ব্যস্ত৷ ওরা দূর থেকে দেখতে পেল ট্যাংক এগিয়ে আসছে। বন্ধুরা ডাকল চল সরে যাই৷ ট্যাংকের সাথে আমরা কী পেরে উঠব? এটা হবে আত্মহত্যার সামিল। নির্মল বলল তোরা যা আমি আসছি৷ মাইনগুলো লাগিয়ে আসি। আর বেশি বাকি নেই৷ তোরা যা। আমি পাঁচ মিনিটেই আসছি। লাস্ট মাইনটি লাগিয়ে নির্মল যেই পা বাড়াতে গেল অমনি কয়েকটি বুলেট ওর পিঠ ঝাঁঝরা করে দিয়ে গেল। অব্যক্ত যন্ত্রণায় মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়তে পড়তে যেন একঝলক দেখতে পেল সবিতার জলে ভরা দুচোখ…

অঞ্জনা দত্ত এর ফেইসবুক থেকে নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বোকার স্বর্গে আছো

রিতা রায় মিতু: বাংলার পুরুষ সমাজ, নারীসমাজ গুলতেকিনের বিয়েতে খুব আনন্দ প্রকাশ করছে, তার মানে ...