Home / Breaking News / স্বার্থপরতা ত্যাগ করে সম্পর্কের স্বাদ আস্বাদনই সফল জীবনের দৃষ্টান্ত : নীলিমা সরকার

স্বার্থপরতা ত্যাগ করে সম্পর্কের স্বাদ আস্বাদনই সফল জীবনের দৃষ্টান্ত : নীলিমা সরকার

nilima sarkar

আমি একদিন শুধু কারো সন্তান ছিলাম, তার পর কারো স্ত্রী হলাম, তার পর হলাম মা! সামনে আরো কয়েকটি অধ্যায় আছে – শাশুড়ি হবো দিদা,ঠাকুরমা হবো! কিন্তু আমার ভুলে গেলে চলবেনা যে জীবনের সবগুলো অধ্যায়ে ভূমিকাগুলো আলাদা আলাদা হলেও আমি আসলে সবস্থানেই একজন মানুষ,আর মনুষত্ব্য ধারণ করার নিশ্চয়তা সমস্ত ভূমিকার উর্ধে!
আবার প্রতিটি ভূমিকাই কিন্তু মানুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ!

আমাদের বাংলাদেশের পরিবার গুলোর কিছু সম্পর্কের মাঝে এক প্রকট সংকট বিরাজ করে যা মধ্যবিত্ব ও নিম্নমধ্যবিত্ত পর্যায়ে জটিল ব্যাধি স্বরুপ।

আর তা হলো ” বউমা বনাম শাশুড়িমা”!

কখনো বউ দ্বারা শাশুড়ি নিপীড়িত!আবার কখনো শাশুড়ি দ্বারা বউ নিপীড়িত!

কোনো কোনো পুরুষের পক্ষপাতিত্ব্বের পাল্লা বউয়ের দিকে ভারী থাকে, আবার কোনো কোনো পুরুষের পক্ষপাতিত্বের পাল্লা মায়ের দিকে ভারী থাকে! এই পর্যায়ের পুরুষের বিবেচনা কখনোই নিরেপেক্ষ হয়না! আর সমাজের সুনজর অবশ্য বেশিরভাগ সময়ই শাশুড়িদের পক্ষেই যায়! আর সেটাই স্বাভাবিক! কারণ, শাশুড়ি নামক এই পজিশনটি অত্যান্ত সেনসেটিভ! তিনি স্বামীর মা এটাই বড় কথা!
পরিবারে, সমাজে এই অসামঞ্জস্যতার জন্য দায়ী আসলে পরিবারের কর্তা স্বামীটি!

আসলে বিধাতা প্রতিটি হৃদয়ে প্রতিটি সম্পর্কের জন্য ভালোবাসা মমতার আলাদা আলাদা চেম্বার করে দিয়েছেন! মানুষ নিজেই কেবল অজ্ঞানতায় সেগুলোর ব্যালেন্স করে চলতে পারেনা!

কখনো বউয়ের মনযোগ, আহ্লাদ পেতে মা’কে অবজ্ঞা করে বউয়ের সব আবদার মাথায় তুলে মায়ের প্রতি অন্যায় করছে!
আবার তেমনি -মায়ের চরণ তলে সন্তানের স্বর্গ জেনে ভুলেই যাচ্ছে যে তাঁর মা’ও একজন রক্ত মাংসের মানুষ! যার ভুল হতে পারে, যিনি অন্যায় করতে পারেন! যিনি অজ্ঞ হতে পারেন! তিনি অনৈতিক হতেই পারেন! কিছু সন্তান ভূমিকার পুরুষরাতো এমনই হন যে- মা কোনো দোষ করতে পারেন তা ভাবতেই পারেননা! মা যা বলবেন তার সবটাই বিশুদ্ধ নাও হতে পারে অন্তত তিনি যখন শাশুড়ির ভূমিকায়! একজন বিচক্ষণ পুরুষ অবশ্যই মায়ের প্রতি সন্মান বজায় রেখেই মায়ের ত্রুটিগুলি ধরিয়ে দিতে পারেন কখনো সখনো মায়ের বাবা হয়ে!
আমি একজন মা,আমার ভুল হতেই পারে! যেহেতু আমি সবার আগে একজন মানুষ!
বউ’কে ভালোবাসতে গিয়ে, কর্তব্যগুলো করতে গিয়ে
মায়ের প্রতি অবিচার! আবার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা কর্তব্য করতে গিয়ে বউয়ের মনে কষ্ট দেওয়া, বউকে অবহেলা করা, দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলা এতো পুরুষেরই অপারগতা, অজ্ঞতা!
আসলে বাংলাদেশের সমাজ ব্যাবস্থা এখনো পুরুষকে এই দুটি সম্পর্ক ব্যালেন্স করে চলার শিক্ষা দিতে পারেনি! একতরফা শিক্ষাই ফাটল ধরাচ্ছে সম্পর্ক হতে সম্পর্কের মাঝে!

আমি মায়ের স্থান থেকে বলবো –
আমি “মা” একজন যদিও,
তবু একাধিক সন্তানের জননী!
আমি স্ত্রীর স্থান থেকে বলছি –
আমার একজনই স্বামী,
আর আমি তার একটাই ঘরনী!

একজন বউয়ের প্রতি সঠিক উপায়ে কর্তব্য পালন করাও প্রতিটি ধর্মের নির্দেশ!
যেমন নির্দেশ একজন মায়ের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা! তুমি তোমার মায়ের স্তন্যপানে যেমন বড় হয়েছো, তেমনি তোমার স্ত্রীও তার মায়ের স্তন্যপানে বড় হয়েছে! আবার তোমার সন্তানকেও স্তন্যপানে বড় করছে!
আমরা সম্পর্কগুলোকে ভালোবাসবো,যত্ন করবো! তবে অবশ্যই অন্ধভাবে নয়!

আমরা হৃদয়ের নির্ধারিত স্থান হতেই সম্পর্কগুলোকে অধিকারী করবো! সুতরাং কারো অধিকার আদায় করতে কাউকে অধিকার বঞ্চিত করবো না! জীবন তো একটাই! যতটা সম্ভব আমরা দোষমুক্ত আর নিরপেক্ষ, বিশুদ্ধ করে বয়ে নিয়ে যাই প্রতিটি সম্পর্ককে!

আমরা আজ মা, আগামীতে শাশুড়ি হবো, বউ এলে প্রতিদিনে ছেলের মুখের একটা ডাক যদি কমে যায় তাহলে সেটা নিয়ে বউমা’কে দায়ী করে দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই! এটাই আমরা ভাববো যে ছেলের জীবনে আরেকটা সম্পর্কের যোগ হয়েছে, আর সেটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়! তাঁর সময় থেকে নাহয় মা ডাকার আধটুকু সময় কমে গেছে, কিন্তু মায়ের জায়গা তো আর হারিয়ে যায়নি! উতলা হয়ে বিশৃঙখলার কিছুই নেই!
স্বার্থপরতা ত্যাগ করে প্রতিটি সম্পর্কের স্বাদ আস্বাদন করাই সফল জীবনের দৃষ্টান্ত!

নীলিমা সরকারের ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

32

নৌকাকে বিজয়ী করতে না পারলে বিএনপি জামায়াত দেশকে ধ্বংস করে দেবে

সংবাদ পরিক্রমা: দিনাজপুর সদর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর ...