Home / Breaking News / সিলেটে পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ

সিলেটে পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ

সংবাদ পরিক্রমা: সিলেটে পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ ওঠছে। অপরাধের সাথে বাড়ছে কতিপয় পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা। চলতি বছর অন্তত ছয়টি অপরাধ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নাম জড়িয়েছে পুলিশের।

পুলিশের দায়িত্বশীলরা বলছেন, পুলিশের যেসব সদস্য কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন, তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৭ মার্চ ময়মনসিংহ থেকে আসা এক দম্পতিকে সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় হেনস্থা করেন এসএমপির এএসআই ওবাইদুর রহমান। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত ওবাইদুরকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়।

গত ১৫ জুন সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্টে দাড়িয়াপাড়ার এক যুবককে মারধর করেন নগরীর মহানগর পুলিশের এটিএসআই মাসুম আহমদ। ওই ঘটনায় তাকে ক্লোজড করা হয়।

গেল জুলাই মাসে পুলিশে ৭ জনকে নিয়োগ দিতে ঘুষ গ্রহণ করেন সিলেট রিজার্ভ রেঞ্জ ফোর্সের (আরআরএফ) নায়েক খুরশেদ আলম। পুলিশের তদন্তে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ক্লোজড করা হয়। ১৫ জুলাই তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

গত ৪ আগস্ট রাতে সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে ইয়াবাসহ মোগলাবাজার থানার কনস্টেবল তোফায়েল আহমদকে আটক করে র‌্যাব। তার কাছ থেকে ৬০৩টি ইয়াবা জব্দ করা হয়। পরে মামলাও হয় তার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, সিলেট নগর পুলিশের (এসএমপি) কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম গত ১৮ আগস্ট ‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ মারা যান। তবে তার স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। তবে আশরাফুলের মৃত্যুর পর গত ১ সেপ্টেম্বর তার মোবাইল ফোনে পাওয়া দুটি ভিডিওচিত্রে বেরিয়ে আসে এসএমপিতে কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য।

ওই ভিডিওচিত্রের একটিতে নিহত আশরাফুলের স্ত্রী কনস্টেবল উর্মি বেগম এবং রিজার্ভ ইন্সপেক্টর গোবিন্দ শুল্ক দাসের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। অপরটিতে আশরাফুল তার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোয় গোবিন্দকে মারধর করছেন, এমন চিত্র ছিল।

এ ঘটনার পর তদন্তে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি বেরিয়ে আসায় গোবিন্দ শুল্ক দাস ও উর্মি বেগমকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ক্লোজড করে এসএমপি।

গেল ৬ অক্টোবর নগরীর সুবিদবাজারে এক্সেল টাওয়ারের ৯ম তলার ফ্ল্যাট নং ‘এ’তে হোমিও চিকিৎসক দম্পতি সাবিহা সুলতানা ও মুসলিম আলীর বাসায় এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে কোতোয়ালী থানার এসআই জুবায়ের খানের বিরুদ্ধে। পরে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

পুলিশ সদস্যদের অপরাধের জড়িয়ে পড়া বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা সিলেটভিউকে বলেন, ‘আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। যে-ই অপরাধে জড়াচ্ছেন, তাকেই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। কাউকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে, কাউকে করা হচ্ছে বরখাস্ত। কারো বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে, এটাই হচ্ছে শেষ কথা।’ সূত্র: সিলেট ভিউঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক হবে : তথ্যমন্ত্রী

সংবাদ পরিক্রমা: ক্যাসিনো থেকে চাঁদা নেয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ ...