Home / ফেইসবুক কর্নার / “যাপিত জীবনে কড়চা” বইটি আমি সম্পূর্ণ পড়তে পারিনি

“যাপিত জীবনে কড়চা” বইটি আমি সম্পূর্ণ পড়তে পারিনি

032

হাফিজুর রহমান : আমার প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব ইফতেখায়রুল ইসলাম স্যারের এবারের বই মেলায় একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশিত হয়েছে শব্দশৈলী প্রকাশনী থেকে। স্যারের অটোগ্রাফসহ বইটি সংগ্রহ করেছি গত পরশু বই মেলা থেকে। এমনিতেই স্যারের ফেসবুকে অসাধারন লেখাগুলো নিয়মিত পড়া হয় আমার। স্যার আমাকে ফ্রেন্ডলিস্টে না রাখলেও ফলোয়ার হিসেবে সি-ফাস্ট করে রেখেছি স্যারের আইডি। যে কারণে স্যারের আইডি থেকে কোন পোস্ট করলেই সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন পেয়ে যাই। চমৎকার গোছাল লেখাগুলো যে কোন পাঠককেই মুগ্ধ করে। আর সে সব ফেসবুক পোস্ট নিয়েই প্রকাশ পেয়েছে বইটি। স্যারের লেখার মান নিয়ে আমার আগে থেকেই মুগ্ধতা আছে। তবে স্যারের কিছু সমালোচনা আমাকে আজ করতেই হবে। তার আগে বইটির প্রকাশককে কিছু বলে নেয়া যাক।

প্রথমেই বলে নেই বইটি প্রকাশ পেয়েছে ৫ ফর্মায়। তবে প্রকাশক শুধুমাত্র পাঠকের পকেট কাটতে তিনটি পাতা যোগ করে ৬ ফর্মার হিসেবে দাম ধরেছেন ২৫০ টাকা। আরও বুঝিয়ে বললে এই বইয়ের যে সাইজ তাতে ১৬ পৃষ্ঠায় এক ফর্মা। বাংলা একাডেমির শর্ত অনুযায়ী এক ফর্মার দাম রাখতে হবে এবার ৪০ টাকা। কিন্তু বইটি টেনেটুনে ৮৬ পৃষ্ঠায় করে দাম ধরা হয়েছে ৬ ফর্মার। যদিও ৬ ফর্মার দাম হয় ২৪০ টাকা। তারপরেও ৯৬ পৃষ্ঠায় ৬ ফর্মা হলেও ১০ পৃষ্ঠা কম রেখে বইটির মূল্য নির্ধারণ করেছেন। যা পাঠকের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।

সূচিপত্র দেখেই প্রথমে থমকে গিয়েছি। মোট ৩৫টি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সাজানো সূচিপত্র এক পৃষ্ঠায়ই হতে পারে। কিন্তু প্রকাশক সূচিপত্রের প্রথম পৃষ্ঠার উপরে বেশ খানিকটা স্থান ছেড়ে দিয়ে দৃই পৃষ্ঠায় সূচিপত্র রেখেছেন। এটা শুধুমাত্র পৃষ্ঠা সংখ্যা বাড়ানো ব্যতীত আর কিছুই মনে হয়নি। ১১ নং পৃষ্ঠা থেকে শুরু করেছেন মূল বইয়ের লেখাগুলো। যা অন্য বইতে সাধারণতঃ ৯ পৃষ্ঠা থেকেই শুরু করা হয়। বইয়ের দ্বিতীয় গল্প “জালালেরা মরে গিয়ে বেঁচে যায়” এর ১৪ নং পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়তেই আটকে গেছে চোখ। ৬নং লাইনের শেষে “স্ত্রী ও সন্ত” বাক্যটি পড়তে গিয়ে হোচট খেয়েছি চরমভাবে। সন্তানের শব্দটি ভেঙ্গে অর্ধেক এক লাইনে আর অর্ধেক আরেক লাইনে। ঠিক একইভাবে ৪৭নং পৃষ্ঠায়ও ৪র্থ লাইনে এক শব্দ ভেঙ্গে দুই লাইন হয়ে গিয়েছে। প্রথমটা কোন রকম এড়িয়ে গেলেও দ্বিতীয়টা দেখে আর সামনে এগোতে পারিনি।

র’ ফলার ক্ষেত্রে এত বেশি সমস্যা বইটির মুদ্রণে, যা ভাবতেও অবাক লাগে। অন্য কোন লেখক এমন বই প্রকাশ করতে রাজী হত কিনা সন্দেহ আছে। মূলত স্যারের লেখাগুলো ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগ্রহ করে ইউনিকোড থেকে বিজয়ে কনভার্ট করার পর প্রকাশক ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় একবারও পড়ে দেখেননি। ৪৫নং পৃষ্ঠায় তৃতীয় লাইনে ইউটিউবকে ইউটিউভ আর ১৫তম লাইনে “সহ উক্ত” শব্দ দুটিকে একত্রিত করে সহউক্ত ছাপানোর দায় প্রকাশক কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। বইটিতে কি এবং কী শব্দটি সবস্থানে কী শব্দে ব্যবহার হয়েছে। দুটো ভিন্ন শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহার হলেও প্রকাশক সেটা সবগুলোতেই কী শব্দটি ছেপেছেন। হয়তো কি এবং কী শব্দের পার্থক্যটা পাঠক ভ্রান্তভাবেই গ্রহণ করবে। আমি নিশ্চিত বলতে পারি প্রকাশক কোন প্রুভ রিডারের সহায়তা ছাড়াই বইটি প্রকাশ করেছেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। সবশেষে বইয়ের ব্যাক কভারে প্রকাশক একটি কিউআর কোড ব্যবহার করেছেন। যেটি কিউআর কোড স্কানারে কোন তথ্যই দেখাতে পারে না বা শুধুমাত্র পাঠককে বিভ্রান্ত করতেই এটা দেয়া হয়েছে।

এবার আসি লেখকের প্রসঙ্গে। ইফতাখায়রুল ইসলাম স্যার একাধারে কবি, উপস্থাপক, আবৃত্তিকার, লেখক, গায়ক হিসেবে আগে থেকেই সুপরিচিত। এই বইটি স্যারের প্রথম প্রকাশিত বই। প্রথম বই একজন লেখকের নিকট প্রথম সন্তানের মত। প্রথম সন্তান যদি বিকলাঙ্গ বা অপরিপক্ক হয়ে জন্মায় তাহলে সন্তানের পিতা মাতার মন খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক। স্যারের প্রতিটি স্ট্যাটাস পুলিশ ও জনগনের না জানা গল্পগুলো ভেসে ওঠে ছবির মত। তবে স্ট্যাটাসসমূহ সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে লেখা ছিল। যা সবসময় গল্পের ঢং-এ কারও নিকট ভাল নাও লাগতে পারে। যে কারনে এসব ফেসবুক স্ট্যাটাস যেদিন লেখা হয়েছিল সে তারিখটি প্রতিটি গল্পের শেষে লিখে দিলে পাঠক বুঝে নিতে পারত এটা কোন সময়ের প্রেক্ষিতে লেখা হয়েছিল। স্ট্যাটাস বা গল্পের ধরণ বা থিম নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। চমৎকার গোছাল লেখাগুলো বরং বই আকারে প্রকাশ পেয়ে প্রকাশকের ভুলে বইয়ের মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতেই পারেন। তাদের জন্য বলবো একটু ধাক্কা খেলেও গল্পগুলো পড়ে আপনি ঠকবেন না। বইটির ভুমিকাসহ সব লেখাই স্যার নিজে লিখেছেন যা কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে। প্রকাশক বা অন্য কারও কোন লেখা নেই বইটিতে।

মূলতঃ স্যারের সাথে আমার লেখার প্লাটফর্মের চমৎকার মিল আছে। আমরা দুজনেই পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে লিখে যাই অনবরত। আমার প্রকাশিত “যে গল্প হয় না লেখা” বইটিও প্রায় একই থিমে লেখা। তবে আমার ৮০ পৃষ্ঠার (৫ ফর্মা) বইটিতে গল্প আছে মাত্র ১৮টি। প্রায় একই সংখ্যক পৃষ্ঠায় আমার বইটির দাম রাখা হয়েছে মাত্র ২০০ টাকা। সে হিসেবে স্যারের বইটির দাম তুলনামূলকভাবে বেশিই হয়েছে। পরিশেষে বলবো ইফতেখায়রুল ইসলাম স্যারের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে প্রকাশক সাহেব পাঠক ঠকানোর কৌশল গ্রহণ করেছেন খুব সুক্ষ্মভাবে। হয়তো পুরানো কোন লেখকের বই এভাবে ছাপলে সে বই মেলার গেট দিয়ে ঢোকার অনুমতি দিতেন না লেখক। সর্বোপরি বইটির এসব ভুল সংশোধন করে দ্বিতীয় সংস্করনে প্রকাশক একটি সুন্দর পাঠযোগ্য বই আমাদের হাতে পৌঁছে দিবেন এ আশা আমরা পাঠক হিসেবে করতেই পারি।

হাফিজুর রহমান, পুলিশ কর্মকর্তার ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Number of Visitors

4.com/wp-content/plugins/xt-visitor-counter/styles/image/web/2.gif' alt='2'>4.com/wp-content/plugins/xt-visitor-counter/styles/image/web/0.gif' alt='0'>4.com/wp-content/plugins/xt-visitor-counter/styles/image/web/2.gif' alt='2'>8975
Users Today : 520
x

Check Also

ডন

ভাবনা ক্লাব সিলেটে-১

আজিজুস সামাদ ডন: সেদিন ভাবনা ক্লাবে যেয়ে দেখি অস্থির ব্যাপার স্যাপার। সবাই খুব উত্তেজিত। কেউ ...