Home / ফেইসবুক কর্নার / যদি আমার সংস্কৃতি আমার অহঙ্কার! তাহলেই আমিও হতে পারি যোগ্য নারী!

যদি আমার সংস্কৃতি আমার অহঙ্কার! তাহলেই আমিও হতে পারি যোগ্য নারী!

সরকার

বেগম রোকেয়া এবং সুফিয়া কামালের মত মহিয়সী নারী’রা জানতেননা যে মেয়েদের কে কুসংস্কার মাড়িয়ে বৈষম্যের চৌকাঠ পেরিয়ে, শিক্ষা দীক্ষায় সাবলম্বীতায় সমাজ, দেশ বিশ্বে মেয়েরা নিজেদেরকে যোগ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভুলেই যাবে তার মূল যোগ্যতা!
সে যুগে মেয়েদের যোগ্যতা হিসেবে দেখা হতো মেয়েটি কয় পদের রান্না জানে,কয় পদের আঁচার, কয় পদের পিঠা তৈরী করতে পারে।ঘরের দেওয়ালে নিজের হাতে সেলাই করা কয়টি মনমগ্ধকর দৃষ্টিনন্দন ওয়ালম্যাট রয়েছে! কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে মেয়েরা একেবারেই পিছিয়ে ছিলো বা বিচ্ছিন্ন ছিলো ও বলা যেতে পারে! তাই তো এই সব সন্মানীতা সমাজ সংস্কারক মহিয়সীগন মেয়েদের শিক্ষায় ঘরের বাইরের জ্ঞানে এগিয়ে নিতে কলম যুদ্ধ করেছিলেন, সফল ও হয়েছেন তাঁরা!

এখন ঘরে ঘরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বচ্চো ডিগ্রী অর্জনকারী মেয়ের অভাব নেই!
বিশ্বের অনেক দেশের নারীদের তুলনায় এখন বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষায় যোগ্যতায় অনেক এগিয়ে!

কিন্তু নারীদের পক্ষের কলম যোদ্ধা, সমাজ সংস্কারক ওই সব মহিয়সী নারীরা যদি জানতেন যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, সাবলম্বীতা ও নিজেদেরকে কুসংস্কার মুক্ত করতে গিয়ে মেয়েরা তার আসল সংস্কার, আসল যোগ্যতাকেই হারিয়ে ফেলবে তাহলে হয়তো তাঁদের নির্দেশনা মূলক ও উৎসাহী লেখার সাথে নিজের বেসিক যোগ্যতা ভুলে না যাওয়ার শর্তটাও জুরে দিতেন।
নারীরা শিক্ষায় যোগ্যতায় কোনো অংশে পিছিয়ে নেই পুরুষের চেয়ে! কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি মেয়েরা পিছিয়ে পরেছে মেয়েদের যোগ্যতা থেকে? যা আমাদের সংস্কৃতিরই ভরাডুবি করছেনা! সুখ পাখি ধরতে গিয়ে আপন নীড়ের শান্তি ভুলে যাচ্ছে! এভাবে চলতে থাকলে খুব দ্রুতই প্রজন্মের কাছে অচেনা হয়ে যাবে মমতাস্পর্শী শান্তির অনুভব।
জীবন অনেক সুন্দর! জীবন অনেক মধুময়! জীবন মমতায় আঁকা এক অপূর্ব রঙিন ক্যানভাস!
আমরা কেবল নিজেদেরকে খবরের কাগজে ফেস্টুন কিংবা ব্যানার হাতে র‍্যালির প্রথম সারির ছবি হতে কিংবা টিভি মিডিয়ার নিউজের শিরোনাম হতে নয়! কিংবা বিখ্যাতদের কাতারে নিজেদেরকে তালিকাভূক্ত করতে নয়! আসুন আমরা প্রকৃতপক্ষেই নারীদের উন্নয়নে কলম ধরি! বর্তমান নারী সমাজকে মনে করিয়ে দেই যে নারী উন্নয়নে সংগ্রামী ওই সব মহিয়সী যোদ্ধারা নারীদের শিক্ষা, যোগ্যতায় উন্নয়ন চেয়েছেন, অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে বলেছেন, কুসংস্কারমুক্ত হতে বলেছেন, কিন্তু নিজের অস্তিত্বকেই ফেলে রেখে এগোতে বলেননি!
এখন আর মেয়েরা মমতায় সাজায়না তার ঘরের খুটিনাটি!
এখন মেয়েরা পায়ে আলতা পড়ার সময় পায়না! সময় পায়না চুলগুলোকে গুছিয়ে বিনুনী করতে, কিংবা অতি যত্নে চুলের খোঁপাটিতে রুপোর কাঁটা কিংবা একটি কাঠাল চাপা গুজতে।
সময় নেই আর কপালে একটি টিপ আঁকার! এখন রমনীর গায়ে থাকেনা কোনো পাউডার কিংবা আতরের গন্ধ!
নিজ হাতে সেলাই করা ফুলতোলা বালিশে আর পাশাপাশি শোয়া হয়না দম্পতি’র! দেওয়ালের ম্যাটগুলোতে বানিজ্যিক রঙরুপ!
মা,নানীদের ঐতিহ্য আর রান্নায় প্রয়োজন নেই! ইউটিউব কিংবা ডিজিটালেজেশন এখন রান্নায় স্বাদ রসনায়।
এখন আর মা কিংবা দাদী নানীর হাতে এত সময় নেই! কিংবা ছেলে মেয়ে বা নাতি নাতনীদেরও এত সময় নেই রুপকথার গল্প শোনার বা বলার।
এখন কেবলই দৌড়ানোর সময় সময়ের সাথে সাথে শরীরের দৌড়! মস্তিষ্কের দৌড়! পুরুষের সাথে নারীর যোগ্যতার প্রতিযোগীতার দৌড়!
শান্তির অনুভূতিগুলো হারিয়ে গেছে প্রতিযোগীর সফলতার প্রবল উৎকণ্ঠার ভীড়ে।

একবার কি আমরা এটা ভেবে দেখেছি যে একজন পুরুষ যদি আয় রোজগার না করে কেবল ঘরের রান্না বা ঘরকোণের অন্যকাজে পারদর্শী হয় তবে কি আমরা তাকে সুপুরুষ বলবো? বা পাত্র হিসেবে আমাদের বোন ভগ্নি কিংবা নিজের জন্য যোগ্য মনে করবো?

তাহলে –
আমরা মেয়েরা কেন রান্না বান্না, ঘরকোণের কাজ, সন্তান লালন পালনের যোগ্যতা অর্জন না করে নিজেকে ডিসি ম্যাজিস্ট্রেট পদে অধিষ্ঠিত করে পুরুষের সমমর্যাদায় নিজেকে সফল ভাববো?

নারী হিসেবে প্রথমে নারীকে তার বেসিক যোগ্যতা অর্জন করতে হবে তার পরে তার অন্য সব যোগ্যতা অর্জন সন্মানের সাথে সীকৃত হবে!
ঠিক যেমন – পুরুষ হিসেবে প্রথমে অর্থ উপার্জনকারী কাজে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, তার পর অন্যসব যোগ্যতা সন্মানের সাথে সীকৃত হবে।
আসুন আমরা হারিয়ে যাওয়া, ফেলে আসা, সংস্কৃতিকে পুনরুদ্ধার করি।

নীলিমা সরকারের ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ওসমানি

আজ সেই সূর্য সন্তানের জন্মদিন

আজ সেই সূর্য সন্তানের জন্মদিন, যার নিজের যোগ্যতার রেঙ্ক দিতে বাধ্য হয়ে পাকিস্তানী জেনারেল তাচ্ছিল্য ...