Home / Breaking News / ভাবনা ক্লাব সিলেটে-১

ভাবনা ক্লাব সিলেটে-১

ডন

আজিজুস সামাদ ডন: সেদিন ভাবনা ক্লাবে যেয়ে দেখি অস্থির ব্যাপার স্যাপার। সবাই খুব উত্তেজিত। কেউ বলছে এটা হতে পারে না, কেউ বলছে আপনারা আমাদের সাথে সংলাপের মাধ্যমে কাজটি করতে পারতেন, কেউ বলছে আমরা যদি আন্দোলনের ডাক দেই আপনারা উড়ে যাবেন, আপনাদের অস্তিত্ব থাকবেনা। বিষয় কি, কাকে উদ্দেশ্য করে এতো ঝড়ো হাওয়া বইছে কিছুই বুঝতে পারছিনা।
শেষ পর্যন্ত আমি দাঁড়িয়ে বললাম, আমি আজ একটি প্রসঙ্গে আলাপ করতে চাই।

ওষুধে কাজ দিল। ডাক্তার সাহেব প্রায় ধমকের সুরে বলে উঠলেন, রাখেন আপনার প্রসঙ্গ। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব আগামী মঙ্গলবার যেয়ে বৃহস্পতিবার ফেরার ঢাকা-সিলেট-ঢাকার সাতটি এয়ার টিকেট ফ্রি পেয়েছেন যেটা তিনি ভাবনা ক্লাবকে গিফট করতে চান, মৌলভীবাজার যাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার, সঞ্চালক আর ক্যামেরাম্যান মিলে। সঞ্চালক সাহেবের আত্নীয় ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন চা বাগানের বিশাল বাংলো, ক্যামেরাম্যান মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা করছেন।

আমি বললাম, খারাপ কি, এই কারনে এতো ধ্বংসাত্মক আলাপ কেন।
লাফ দিয়ে উঠে জমিদার নন্দন বললেন, আরে অফিস খোলা, সবার কাজ আছে না, যাবে কি করে সবাই।
আমি বললাম, আপনার জমিদারী আছে, আপনার আবার অফিস খোলা বন্ধের সাথে সখ্যতা কিসের।
জমিদার নন্দন উত্তর দিলেন, আরে ঘুমটা তো অফিস খোলা থাকলেই দিতে পারি। অফিস বন্ধ থাকলে বউ একবার মাছ কিনতে পাঠাবে, আরেকবার ধইন্যাপাতা কিনতে পাঠাবে, আরেকবার কাঁচামরিচ। ঘুম বাদ দিয়ে আমি কি ভাবে যাই।
আমি সঞ্চালককে বললাম, উইকেন্ডে যাওয়া যায়না।
তিনি বললেন, যাওয়া গেলে কি এতো আন্দোলনের সুযোগ দেই। টিকেটের অফারটা তো এসেইছে এভাবে।
আমি বললাম, তাহলে তো আপনারা তিনজনই যাবেন।
সঞ্চালক বললেন, আরে, আপনার জন্যই তো যাওয়া। আপনার না সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
আমি বললাম, সেটা ঠিক, আমি ঐ মঙ্গলবার থেকেই সিলেটে আছি। কিন্ত আপনারা তো শ্রীমঙ্গলে যাচ্ছেন। ওখান থেকে ইলেকশন ওয়ার্ক করতে যাওয়া আসা করলে দুই ঘন্টা দুই ঘন্টা চার ঘন্টা লেগে যাবে রাস্তাতেই।
ইঞ্জিনিয়ার গোমড়া মুখে বসে ছিলেন এতক্ষন। গোমড়া মুখেই বললেন, কি জ্বালা, আপনার জন্যই তো যাওয়ার প্ল্যান করলাম, এখন আপনেও ঘন্টার হিসাব দেন।
আমি বললাম, শ্রীমঙ্গল, সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ সব যদি আপনাদের কাছে একই স্থানের নাম হয় আমি কি করবো। ঠিক আছে, সবাই যদি আন্দোলন থামিয়ে দেয় তাহলে আমি যেতে রাজি আছি। দুদিন না হয় ইলেকশনে কম সময় দিলাম।
সঞ্চালক বললেন, আরে আন্দোলন নিয়া ভাবার দরকার নাই, সাত জন না পাওয়া গেলে চারজনই যাবো। তারচেয়ে বলেন ইলেকশনের অবস্থা কি, জিতবে কে।
আমি বললাম, প্রার্থি হিসেবে আমার দলের প্রার্থি মারাত্নক জনপ্রিয়। বাকিটুকু ইলেকশনের পর বলা যাবে।
ক্যামেরাম্যান বললেন, পত্রিকায় দেখলাম বিরোধী দল অভিযোগ জানিয়েছে, সরকারি দল নাকি বিরোধী দলে ভাঙ্গন ধরিয়েছে।
আমি বললাম, তারা তো আর স্বীকৃত বিরোধী দল নাই। তারা কখনো বিরোধী দল হিসেবে চড়াই উৎরাই পার হয়নি। তাদের শুধু নালিশ আছে, কখনো ভাসুরের কাছে কখনো জ্যাঠালির কাছে কিন্ত আসলে তারা পর্বতসম বিরোধীদলীয় কর্মযজ্ঞের পাহারের সামনে দাঁড়ালেই ভয় পেয়ে যায় আর ভাবে, এই পর্বত ডিঙ্গাবার ক্ষেত্রে তাদের কোন ভূমিকা রাখবার সম্ভবনা নাই। তখনই শুরু হয় পিছু হটবার প্রক্রিয়া।
সঞ্চালক বললেন, সকলে যদি আমাদের মৌলভীবাজার যাবার অনুমতি দেন, তাহলে একটি বিরোধী দলীর গল্প শুনিয়ে আজকের আসরের এখানেই সমাপ্তি টানতে চাই।

জমিদার নন্দন বলল, অনুমতি তো দিতেই হবে, তবে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা সহ নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে আপনাদের যাবার অনুমতি দেয়া হল।
সঞ্চালক বাকি সবার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে বললেন, এটাকে কি শুধু আমরা জমিদার নন্দনের অনুমতি হিসেবে দেখবো নাকি সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখবো এবং আপনারা আপনাদের বিরোধী দল মার্কা আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘোষনা করলেন বলে ধরে নেবো।
গড়গড় আর গজগজ মার্কা শব্দ ব্যাবহার করে সকলে বুঝিয়ে দিল যে, তারা অনোন্যপায় হয়ে অনুমতি দিল। যদি অন্য কোন উপায় থাকতো তবে এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের বিকল্প অন্য কোন পথ তারা বেছে নিতো না।

(চলমান)

লেখক: প্রয়াত জাতীয় নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের পুত্র আজিজুস সামাদ আজাদ ডন।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তামিম

তামিম ইকবালের জন্মদিন আজ

সংবাদ পরিক্রমা: তিনিই বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান কিনা? তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে তামিম ...