Home / Breaking News / ভাবনা ক্লাব সিলেটে-২

ভাবনা ক্লাব সিলেটে-২

ডন

আজিজুস সামাদ ডন: (পূর্ব প্রকাশের পর) সঞ্চালক মহোদয় একটু নড়েচড়ে বসে বললেন, তাহলে আমার গল্পটা শোনাই।
ডাক্তার বললেন, কি আর গল্প শোনাবেন। সিলেট থেকে ফিরে এসে প্রকৃতি নিয়ে কিছু কথা শোনাবেন ক্ষণ।
সঞ্চালক বললেন, এই ইঞ্জিনিয়ার যতক্ষন আছে ততক্ষণ কি আর প্রকৃতি-সোন্দর্য্য নিয়ে মাথা ঘামানো যাবে।
ইঞ্জিনিয়ার বলে উঠলেন, আমারে নিয়া যখন এত্তো অসুবিধা তাইলে আমি বাদ যাইগা।
আমি বললাম, সেটা আবার কি কথা। মূল উদ্দোক্তা যদি না যায় তবে আর যাবার দরকার কি।
ক্যামেরাম্যান বলে উঠলেন, জানেন নাকি, সেদিন ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে যেয়ে জীবনে প্রথম ইঞ্জিনিয়ারের ডাক্তারি দেখলাম। এরকম একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ডাক্তার সঙ্গে না থাকলে ভ্রমন জনিত ব্যাপার স্যাপার বৃথা হয়ে যাবে।
ডাক্তার সাহেবের বোধহয় কথাটা গায়ে লাগলো। বিরক্তি ভাব নিয়ে বললেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ডাক্তার আবার কি জিনিষ?
ক্যামেরাম্যান বললেন, মুভি, নাটক ইত্যাদি যখন আমরা দেখতে যাই তখন আমরা সকলে জেনেই যাই যে, মিথ্যা কিছু দেখতে যাচ্ছি। যারা মুভি বা নাটক তৈরী করে তারাও কিছু হিন্ট দিয়ে দর্শককে বুঝিয়ে দেয় ঘটনাস্থল, কে কোন চরিত্র, সময় ইত্যাদি। এখন আমাকে বলেন, কোন একটা চরিত্রকে ডাক্তার বোঝাতে হলে আপনি কি করবেন?

ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে যেহেতু প্রশ্নটি করা হয়েছে তাই উত্তর দেবার দায়িত্ব নিজ ঘাড়ে নিয়ে ডাক্তার বললেন, সাদা এপ্রন পড়িয়ে দিয়ে গলায় স্টেথেস্কোপ ঝুলিয়ে দেবো।

ক্যামেরাম্যানকে সাধারনত আমরা খুব সিরিয়াস মানুষ হিসেবে গন্য করি এবং তার হাসি আমাদের কাছে এক দুর্লভ বস্ত, আজ বহু জনম পর তাকে হাসতে দেখলাম। ফিক করে একটা শব্দের সাথে মুখের কোনটা একটু বেঁকে যাওয়ায় আমি বুঝে নিলাম ওটা হাসি ছিল। সেই আধো হাসির ফাঁক দিয়ে তিনি বললেন, সেদিন বাসায় যেয়ে দেখি, উনি নিজের গাড়ি স্টার্ট দিয়ে একটা সাদা এপ্রন পড়ে কানে স্টেথেস্কোপ লাগিয়ে সেই স্টেথেস্কোপ দিয়ে ইঞ্জিনের শব্দ শুনছেন।

ইঞ্জিনিয়ার আর থাকতে পারলো না। আরে মিয়ারা, আপনারা কি আমারে কমেডিয়ান হিসেবে সিলেট নিবেন নাকি।
সঞ্চালক খুব গম্ভির গলায় বললেন, মানুষকে হাসাতে পারাটা একটা বিশাল কাজ। তোমার মত মানুষের কমেডিয়ান হবার কোন সম্ভবনা নাই। তবে আমাদের কিছু কমেডি রিলিফ তুমি যে দাও, এটায় কোন সন্দেহ নেই।
জমিদার নন্দন বলে উঠলো, ভাই, আজকে তো কোন কমেডি রিলিফ পাইলাম না ওনার কাছ থেকে।
সঞ্চালক বললেন, জেনে বুঝে কমেডি রিলিফ তৈরী করা বুদ্ধিমানের কাজ, সে তো বুদ্ধিমান না।
ইঞ্জিনিয়ার আর চুপচাপ বসে থাকতে পারলেন না, ঐ মিয়া, তাইলে কি আমি গর্দভ।

সঞ্চালক বললেন, গর্দভ শব্দটা আমি উচ্চারণ করি নাই তবে একটা কথা ঠিক, গর্দভেরা ভারবাহী হিসেবে কাজে আসে, তুমি কি কাজে আসো এপ্রন পড়া স্টেথেস্কোপ লাগানো ইঞ্জিনিয়ার।

ইঞ্জিনিয়ার বললেন, ঐখানেই তো সমস্যা। সব চরিত্রকে একটা নির্দিষ্ট ধাঁচে ফেলাটা আমাদের চেতনার মধ্যে কাজ করে। রিকশাওয়ালা বা কৃষক বললেই মনের মাঝে হত দরিদ্র, ছেড়া লুঙ্গী আর ছেড়া গেঞ্জীর কথা মনে আসবে। কৃষক হলে তো কথাই নেই, জামাটাও রাখা যাবে না গায়ে, এক্কেবারে উদোম শরীর। কয়জন পাইছেন আপনারা এইরকম কৃষক বা রিক্সাওয়ালা। আমার কাজে পরিচ্ছন্নতা রাখতে আমি কাজের সময় সাদা এপ্রন ব্যবহার করি। আমার গাড়ির ইঞ্জিনে একটা খুটুর খুটুর শব্দ ছিল, শব্দের উৎস খোঁজার জন্য আমি স্টেথেস্কোপ ব্যবহার করেছি। এখানে গর্দভ বা বোকার মত কোন কাজটা করলাম।

বাব্বাহ, ইঞ্জিনিয়ারের শুদ্ধ ভাষার দীর্ঘ বয়ানে বোঝা গেল সে খুব মাইন্ড করেছে। মাঝখান থেকে জমিদার নন্দন হাতে তালি দিয়ে বলে উঠলো, হইছে হইছে, কাম হইছে, দলে ভাঙ্গন ধরছে। আমাদের ছাড়া যেতে চাইছিলেন, এখন যাওয়া বন্ধ। বিরোধী দল জয় যুক্ত হয়েছে, বিরোধীদল জয়যুক্ত হয়েছে, বিরোধীদল জয়যুক্ত হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ার বললেন, ঐ মিয়া, আপনে রুলিং দিবার কেঠা এইখানে। আপনারা মিয়া এখন মাজা ভাঙ্গা বিরোধী দল। তীব্র নিন্দা, নালিশ, প্রেস রিলিজ পাঠান তীব্র প্রতিবাদ করেন, নাইলে নোট অব ডিসেন্ট দিইয়া নাকে সরিষার তেল দিয়া ঘুমান গিয়া।

(চলমান)

লেখক: প্রয়াত জাতীয় নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের পুত্র আজিজুস সামাদ আজাদ ডন।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তামিম

তামিম ইকবালের জন্মদিন আজ

সংবাদ পরিক্রমা: তিনিই বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান কিনা? তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে তামিম ...