Home / Breaking News / বহু সমস্যায় জর্জরিত শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বহু সমস্যায় জর্জরিত শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

SHAHZADPUR-UHC-PIC-11.11.18

ফরিদ আহমদ চঞ্চল: শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা হতে বঞ্চিত এলাকাবাসী। শাহজাদপুরের ৬ লক্ষ মানুষের বিপরীতে মাত্র ৬ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বাধ্য হয়ে উপজেলা প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানিসহ নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে রোগীরা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা ৩১৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে ১টি পৌরসভা, ১৩টি ইউনিয়নের ৩৪৩টি গ্রামের প্রায় ৬ লাখ জনগোষ্ঠির জন্য একমাত্র সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্রত্যন্ত ও যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত। কিছু ইউনিয়নের প্রধান সড়ক নির্মাণ হলেও অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক। তাই অসুখে বিসুখে এলাকার জনগন হাসপাতাল বিমুখ। বাধ্য হয়েই ৮০ শতাংশ মানুষকে পল্লী চিকিৎসকের দারস্থ হতে হয়।

সরকারি হাসপাতালের দৈন্য দশার সুযোগে উপজেলার আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক নামধারী কশাইখানা। এসব ক্লিনিকের অধিকাংশতেই চলে সেবার নামে শোষন। ফলে এলাকার অসহায় জনগন রুগ্ন জেনেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। কিন্তু হাসপাতালে গিয়েই শোনেন নাই নাই বার্তা।

সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এমবিবিএস ডাক্তার আছে মাত্র ০৬ জন। এর মধ্যে একজন ডেন্টাল সার্জন ও একজন আয়ুর্বেদ ডাক্তার আছেন। নার্স পদে আছে ১০ জন। সহকারী সার্জন (এ্যানেস্থেসিয়া) না থাকায় প্রায় ৫ মাস যাবৎ ডিএসএফ কর্মসুচীর আওতায় উপজেলার দুস্থ্য প্রসুতি মাতাদের সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ আছে। যাহা বাংলাদেশের ৫৫টি উপজেলা ও সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ডিএসএফ কর্মসুচী চালু আছে। হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও সে অনুযায়ী লোকবল ও রোগ নির্নয় পরীক্ষা নিরিক্ষা করার যন্ত্রপাতি নাই বললেই চলে। মান্ধাতার আমলের এক্স-রে মেশিন ও ইসিজি মেশিন প্রায় সময়ই অচল অবস্থা থাকে বলে হাসপাতালে আগত একাধিক রোগী অভিযোগ করেন।

ডিএসএফ কর্মসুচী চালু থাকা সত্তেও নাই কোন আলট্রা সাউন্ড মেশিন। ফলে নানা ভোগান্তিতে রোগিদের ৫ কিলোমিটার দুরে উপজেলা সদরে গিয়ে বেসরকারী ক্লিনিক থেকে আলট্রা সাউন্ড করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারকে দেখাতে হয়। অসংখ্য অভিযোগ ও না পাওয়ার হাসপাতালের বেডে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। জরুরী ও বহির্বিভাগে মাসে গড়ে প্রায় ৮-১০ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জোবায়দা মেহের নাজ জানান, চিকিৎসক সংকট বরাবরই রয়েছে এ হাসপাতালে। এ্যানেস্থেশিয়ার চিকিৎসক প্রশিক্ষণে যাওয়ায় এবং নতুন করে এ্যানেস্থেশিয়ার চিকিৎসক যোগদান না করায় চাহিদা থাকা সত্তেও সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়াও হাসপাতালের নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে উর্ধতন কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

32

নৌকাকে বিজয়ী করতে না পারলে বিএনপি জামায়াত দেশকে ধ্বংস করে দেবে

সংবাদ পরিক্রমা: দিনাজপুর সদর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর ...