Home / ফেইসবুক কর্নার / পর্যালোচনায় সাহিত্য, সংস্কৃতির অপচর্চা এবং বিকৃত সভ্যতার হাতছানি

পর্যালোচনায় সাহিত্য, সংস্কৃতির অপচর্চা এবং বিকৃত সভ্যতার হাতছানি

নিলীমা সরকার: জ্ঞান হওয়া হতে এ যাবৎ অবধি বাংলাদেশ ও পার্শবর্তি দেশের চলচিত্র নির্মাতাদের প্রতি কখনোই আমার সন্তোষ ছিলোনা! তাই বলে আমি যে আগ্রহ ভরে চলচিত্র দেখিনি তা কিন্তু নয়!
আমি ছোটোবেলা থেকেই চলচিত্র দেখেছি, তবে সেগুলো আমার জন্মের আগে নির্মিত!
সত্তর এর দশক পর্যন্ত নির্মিত চলচিত্রগুলো বেশিরভাগই পরিবার পরিজন সাথে নিয়ে দেখার মত বিনোদনধর্মী এবং শিক্ষনীয়।
পরবর্তি কালে নির্মাণগুলো বেশিরভাগই আমার মনে হয় সমাজ সভ্যতার জন্য কল্যানকর নয়!
তবে টিভি নাটকগুলোর অনেকই এখনো শিক্ষনীয়!
কিছু নাটক নির্মাতারা প্রধান চরিত্রগুলোর সাজ পোশাক ও ডায়লগে ব্যাপক ভাবে ভুল করে যাচ্ছে অপসংস্কৃতি চর্চায় ।
আরো মারাত্মক!
নিজ দেশের সাহিত্য সংস্কৃতি সাজ পোশাককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনুকরণ করে চলেছে পশ্চিমা দেশগুলোকে! এতে করে আভিজাত্য ও ঐশর্যপূর্ণ আমাদের সংস্কৃতির ভরাডুবির আশঙ্কা ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে! আরো বেশি বিপদের কথা যে যারা পোশাক পরিচ্ছদ, চুলের ফ্যাশানের ধরন, কথা ও ব্যাবহারের ধরনে অন্য দেশকে অনুকরণ করছে তারা মূলত উন্নত শিক্ষিত আদর্শ গোষ্ঠীগুলোকে অনুকরণ করছেনা! তারা অনুকরণ করছে অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, নষ্ট হয়ে যাওয়া বা নষ্টগামী গোষ্ঠীগুলোকে! যেমন – পোশাকে অশালীনতা, দৃষ্টিকটু চুলের স্টাইল ও ছেলেদের দাড়ি সেভ করার স্টাইল, শরীরে ট্যাটু লাগানো, ছেলেদের কানে দুল পরা, কথাবার্তা ও ব্যাবহারে শালীনতা নম্রতা ভদ্রতা অভাব ইত্যাদি! সেসব দেশেও ভদ্র, মার্জিত, রুচিসম্মত পোশাক, ব্যাবহার,চুলের স্টাইল ধারক ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী আছে, তারা শিক্ষিত, মার্জিত, সম্ভ্রান্ত! আমি খেয়াল করেছি – তারা বা তাদের ছেলেমেয়েরা অন্তর্বাস সম্পূর্ন দেখিয়ে কিংবা কিঞ্চিৎ বাইরে দেখিয়ে চলেনা! ওরা নম্রতার সাথে ও ধৈর্যের সাথে কথা বলে, ওদের ছেলেদের প্যান্টের পকেট যথাস্থানেই শোভা বর্ধন করে,পেছন সাইডে হাঁটুর নিকটে নয়!
ওরা লম্বা জামাকাপড় ও লম্বাচুলে,কিংবা বেনী খোঁপাতেও নিজেদের সাজায় তাতে তাদের স্মার্টনেস কমেনা বরং বৃদ্ধি পায়! ওরা অর্ধ উলঙ্গ নয়!
কতটা লজ্জার আর ঘেন্নার ব্যাপার যে যে শব্দগুলো ব্যাবহার করে মায়েরা বাবারা তাদের ছেলেমেয়েদের আদর সোহাগ করে থাকেন, ছেলেমেয়েরা ঠিক সেই শব্দগুলোই ব্যাবহার করছে তাদের প্রেমিক ও প্রেমিকাকে আহ্লাদ করতে!
যেমন – আমার বাবুটা/ আমার বেবিটা বাবা/বাচ্চাটা, ছিঃ ছিঃ ছিঃ!
নাটের গুরু তো ওই ধরনের নাটক চলচিত্র নির্মাতারা! তারা বস্তাপচা সস্তা কাহিনী আর কুরুচিপূর্ণ পোশাক ডায়লগের ব্যাবহার করে ভরাডুবির পথে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের সভ্যতাকে।
যুগ যুগ ধরে পোশাক পরিচ্ছদ হেয়ার স্টাইল, এটিচিউডে বেশিরভাগ ছেলে মেয়েরা নাটক সিনেমায় হিরো হিরোইনকে অনুকরণ করে আসছে!
আর সে কারণেই আমি মনে করি সাহিত্য, সংসস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় নাটক, চলচিত্র নির্মাতারাদের উপর খানিকটা বেশিই দায়িত্ব বর্তায়!
নাটক সিনেমায় প্রেমিক প্রেমিকাকে একে অপরের প্রতি উক্ত শব্দ ব্যাবহার অনুকরণ করছে বাস্তবিক জীবনে ছেলে মেয়েরা, যা আমার নজরে এসেছে ফেসবুক ওয়ালের বিভিন্ন পোষ্টে!

একটা সময় ছিলো গাঁয়ের কোনো যুবক যুবতী, কিংবা কিশোর কিশোরী ভালো লাগা ভালোবাসা প্রকাশ করতে একে অপরকে চিঠি বা চিরকুট আদান প্রদান করেছে জানলে ওই মেয়ের সাথে বা ওই ছেলের সাথে অন্য অবিভাবকগণ তাঁদের ছেলে মেয়ে কিংবা আত্মীয়ের সাথে বিয়ে দিতে চাইতেন না।
প্রেম বিষয়টাই ছিলো এক গভীর ও গোপন ব্যাপার! তা জানাজানি হওয়া কেবল লজ্জারই নয়, সামাজিক ভাবে মর্যাদাহানিকর একটি ভীতি!
আর এখন একেকটা ছেলে মেয়েরা বছরে দুই চারটে করে প্রেমিক প্রেমিকা পাল্টাতে না পারলে নিজেকে স্মার্ট ভাবতে
পারেনা!
গর্বের সাথে আলোচনায় প্রসংগগত ভাবে নির্দিধায় উল্লেখ করে – আমার বয়ফ্রেন্ড/ আমার গার্লফ্রেন্ড/ এক্স বয়ফ্রেন্ড / এক্স গার্ল ফ্রেন্ড!

কোথায় আছেন সন্তানদের পিতা মাতারা?
আপনারা কি দেখতে পাননা যে আপনার সন্তান কতটা নির্লজ্জ আর বেহায়া হয়ে উঠেছে? তারা অবাধে তাদের প্রেমিক রদবদলের পোষ্ট দিয়ে যাচ্ছে!
তারা অশ্লীলভাবে ছবি পোষ্ট করছে! একেকটা প্রোফাইল দেখলে মনে হয় ওদের বাবা মা অবিভাবক কেউ নেই অথবা তাদের চোখ নেই যে এসব দেখে আর এইসব দেখে শাসন করতে পারে।

অবিভাবকগন শুধুমাত্র স্কুল কলেজে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট, সর্বচ্চো নাম্বার পাওয়ার প্রতিযোগীতায় সন্তানদের দিকে মনযোগ না দিয়ে, তাদের সুস্থ বিনোদোন সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় উদবুদ্ধ করুন! পরিবারের কিছুটা দায়িত্ব দিন, সেটা হতে পারে রান্না করা, হতে পারে বাজার করা, হতে পারে গ্যাস, ইলেক্ট্রিক বিল জমা দেওয়া ইত্যাদি !

নাটক চলচিত্র নির্মাতাগন অনুগ্রহ করে ঐশর্য্যপুর্ণ বাংলা সাহিত্যের ভান্ডারে দৃষ্টিপাত করুন! দেখবেন আপনাদের নাটক চলচিত্রের প্রেমিক প্রেমিকাদের আহ্লাদ করার ভাষা শব্দের অভাব নেই! অনেক কোমল আর রোমান্টিক শব্দে বাংলা সাহিত্য ভরপুর! অবশ্য সেজন্য সাহিত্যের স্থান কাল নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ!
বাংলার পোশাক, সাজ, ব্যাবহারে আভিজাত্যের বৈচিত্রতা কিন্তু কম নয়!
কেন অন্যদেশের ভিন্ন চর্চা অনুকরণ করে নিজ দেশের সংস্কৃতিকে হত্যা করতে চাচ্ছেন?
আসুন আমরা সবাই আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি রক্ষায় এখন থেকেই সোচ্চার হই!
বিকৃত সভ্যতার হাতছানিকে গুড়িয়ে দেই!
আমাদের বৈচিত্রময় ও আভিজাত্যপূর্ণ সাহিত্য, সংস্কৃতি অক্ষুন্ন রাখতে যত্নবান হই।

নীলিমা সরকারের ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ডন

ভাবনা ক্লাব সিলেটে-১

আজিজুস সামাদ ডন: সেদিন ভাবনা ক্লাবে যেয়ে দেখি অস্থির ব্যাপার স্যাপার। সবাই খুব উত্তেজিত। কেউ ...