Home / ফেইসবুক কর্নার / জীবন্ত কিংবদন্তী কবি আল মাহমুদ

জীবন্ত কিংবদন্তী কবি আল মাহমুদ

শামীমা সুলতানা : কবি আল মাহমুদ এক জীবন্ত কিংবদন্তী। অপরাজিত কাব্য-সৈনিক।আল মাহমুদের মতো কবিকে উপেক্ষা করা যায় অবহেলা করা যায় না। পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া যায় অস্বীকার করা যায় না। বাংলা কবিতার আলোচনায় আল মাহমুদ তাই অনিবার্য। তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ইজুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন। তিনি মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান, বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল প্রমুখের সাহিত্য পাঠ করে ঢাকায় আসার পর কাব্য সাধনা শুরু করেন এবং একের পর এক সাফল্য লাভ করেন। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। তিনি ১৯৭২ইং সাল থেকে ১৯৭৪ইং সাল পর্যন্ত সরকার বিরোধী পত্রিকা “দৈনিক গণকন্ঠ” সম্পাদনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস(১৯৬৬), সোনালী কাবিন(১৯৬৬) ইত্যাদি। 

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু তাকে শিল্পকলা একাডেমীর গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার শহরমুখী প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তার কবিতায় অবলম্বন করেন। নারী ও প্রেমের বিষয়টি তার কবিতায় ব্যাপকভাবে এসেছে। আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য ও অসাধারণ কৃতিত্ব। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য সাহিত্য পুরস্কার। বাংলা একাডেমি পুরস্কারটি পেয়েছেন ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত কালের কলস কাব্যগ্রন্থের জন্য। তখন তাঁর বয়স ৩৫ বছর। তাঁর সবচেয়ে সাড়া জাগানো সাহিত্যকর্ম সোনালি কাবিন।

একজন বিশ্বাসী কবি হিসেবেই নিজের পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। কবিতার জন্য একটি বিশ্বাস থাকা জরুরিও বটে। বিশ্বাস কবিকে একটি জায়গায় এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। বিশ্বাস কবিকে তৃপ্ত করে। অবিশ্বাস করে দিকভ্রান্ত। তবে প্রেম-নারী আল মাহমুদের প্রথম জীবনের কবিতার অনুষঙ্গ। পরিণত জীবনে তিনি বরাবরই বিশ্বাসের কথা বলেছেন। “আল মাহমুদের কবিতা”র ভূমিকায় তিনি নিজেই বলেছেন, “শেষের দিকের কবিতায় আমি আমার গন্তব্য সম্বন্ধে আমার বিশ্বাসকে ব্যক্ত করেছি। আমি মনে করি কবি হিসাবে আমার এই বিশ্বাসই আমার সার্থকতা।” কবিকে বিশ্বাসী করেছে মূলত পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন।

কবি হিসেবে আল মাহমুদ তাঁর শক্তির জায়গাটি নির্মাণ করেছেন মূলত শব্দের অনিন্দ্য সুন্দর ব্যবহারে। কবিরা শব্দ নিয়েই খেলা করেন। তবে আল মাহমুদের বিশেষত্ব হলো শব্দকে দিয়ে তিনি যেন কথা বলিয়েছেন। 

জীবন্ত এই কিংবদন্তী কবি আল মাহমুদকে স্বচক্ষে দেখে তার পায়ে হাত রেখে সালাম করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। তার সাথে কিছু কথাও হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাসায় আছেন। তার সুস্থতা কামনা করছি। 
(তথ্য সংগৃহীত) ফেইসবুক থেকে নেওয়া।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

j

চেতনার অগ্নিবীণা দেশরত্ন শেখ হাসিনা…… টি এইচ এম জাহাঙ্গীর

নৌকার বিজয় মানে বাঙ্গালী জাতির বিজয় এই নৌকার বিজয়ের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন স্বার্বভৌম ...