Home / সাক্ষাৎকার / চুনারুঘাট-মাধবপুর আসনে নির্বাচন করতে চান নিজামুল হক (রানা)

চুনারুঘাট-মাধবপুর আসনে নির্বাচন করতে চান নিজামুল হক (রানা)

Rana

একুশে পদক প্রাপ্ত সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরহুম এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এর সুযোগ্য পূত্র ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক নিজামুল হক (রানা)।
তিনি ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত ছিলেন বতমানে চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের একজন সদস্য প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, হবিগঞ্জ জেলা ও প্রজন্ম ৭১ ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত আছেন ।

বর্তমানে তিনি ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্সের ডিরেক্টর পদে অধিষ্ঠিত আছেন।

হবিগঞ্জ জেলার আওয়ামী লীগের এই নেতা চুনারুঘাট মাধবপুর এর জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নৌকার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান।
চুনারুঘাট-মাধবপুর হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাধারণ মানুষের দ্বারে-দ্বারে গিয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে গ্রামে গ্রামে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে যাচ্ছেন তিনি।

নিজামুল হক (রানা) রাজনৈতিক ইচ্ছা ও মানুষের সেবা করার মহতি উদ্যোগের বিষয়ে একান্ত সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন সামিউল ইসলাম।

সংবাদ পরিক্রমা: আপনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু কীভাবে এবং কেন?
নিজামুল হক (রানা): আইডিয়াল স্কুলে পড়াশোনার সময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তখন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত হই। মাধ্যমিকে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে নির্বাচনে ভোটার না হয়েও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে প্রচণ্ড উদ্দীপনা নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করি। পরে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকার নথ সাউথ ইউনিভাসিটি থেকে বিবিএ শেষে লন্ডনের ইউনিভাসিটি অফ রেডফোডশায়ার থেকে এম.বি.এ ডিগ্রি অর্জন করি।

ঢাকা কলেজে পড়াশুনার সময়ে অতপ্রতোভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম।পড়াশোনা শেষ করার পরে দীর্ঘদিন নিজ উদ্যেগে ব্যবসা শুরু করি। ব্যবসা করার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে চুনারুঘাট-মাধবপুর এলাকার মানুষের পাশে এসে সেবামূলক কাজ করা শুরু করি। জীবনে বাকি সবসময়টুকু আমি মানুষের সেবায় কাটাতে চাই এটাই আমার চাওয়া ও পাওয়া।

তিনি বলেন, আমার পিতা ছয় বারের এমপি ও একজন সফল মন্ত্রী ছিলেন এটাই আমার গর্ব। আমার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সমূহের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং আপামর জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টির লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকি। স্বাধীনতা যে দলের মাধ্যমে এবং যার নেতৃত্বে অর্জন করেছে সেই শক্তির সাথে থাকতে পেরে নিজেকে আমি ধন্য মনে করি।

সংবাদ পরিক্রমা: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?
নিজামুল হক (রানা):
২০১৮ এর শেষের দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে আমি চুনারুঘাট মাধবপুর আসনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রপ্তির প্রত্যাশায় কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দেবেন এবং বিপুল ভোটে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করা ও চলমান উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান করার প্রত্যাশা রাখি।

সংবাদ পরিক্রমা: মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আপনি কতটুকু আশাবাদী?
নিজামুল হক (রানা):
আমার বাবা ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট-মাধবপুর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে মোট ৬ বার এই আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বাবার পরিচয় আমার একটা বড় পরিচয়। তাছাড়া আমি এলাকায় উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে জননেত্রীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত, আমি আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়ে এলাকার জনসাধারনের সেবা করার সুযোগ করে দিবেন।

সংবাদ পরিক্রমা: চুনারুঘাট মাধবপুর দুইটি উপজেলা এবং অনেকগুলো চা বাগান রয়েছে, অনেক বড় একটি নির্বাচনী এলাকা। এখানে ভোটার অনেক। এক্ষেত্রে আপনার প্রস্তুতি কেমন?
নিজামুল হক (রানা):
এ কথা সত্য যে, চুনারুঘাট মাধবপুর উপজেলা অনেক বড় একটি নির্বাচনী এলাকা। ভোটারও অনেক। তবে একথা সত্য যে, আমার মরহুম পিতা এনামুল হক মোস্তফা শহীদকে সবাই ব্যক্তিগত ভাবে চিনে ও ভাল জানে। আমিও বাবার পাশাপাশি এলাকায় ঘুরেছি। দীর্ঘ সময় ধরে আমার প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘদিনের বঞ্চিত ও অবহেলিত এই জনপদে সর্বস্তরের নেতাকর্মী তথা আমার প্রাণপ্রিয় এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে প্রত্যাশিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রস্তুতি চলমান আছে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করে যাবো।

সংবাদ পরিক্রমা: ভোটারদের কাছ থেকে আপনি কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
নিজামুল হক (রানা):
এই আসনের সম্মানিত ভোটারদের সাড়া আশাব্যাঞ্চক। ভোটাররা আমাকে অনেক উৎসাহিত করছেন। সর্বস্তরের ভোটারের প্রত্যাশা আমাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হলে আসন্ন নির্বাচনে বিগত নির্বাচনের চেয়েও অধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হব।

সংবাদ পরিক্রমা : এই মুহূর্তে আপনার দল আপনার কতটুকু সহায়ক?
নিজামুল হক (রানা) :
দলের সকল কর্মকাণ্ডে আমার উপস্থিতি ও সহযোগিতা দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে। আমাকে নিয়ে দলে কোন বিতর্ক নেই। আমি আশাবাদী, দলে আমার সহায়তার ক্ষেত্রেও কোন ঘাটতি নেই। এই মুহূর্তে আমার দল অত্যন্ত সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ এবং দলে কোন বিভেদ নেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস- আমার দীর্ঘদিনের ব্যাপক কর্মকাণ্ডে সকল নেতাকর্মীই সন্তুষ্ট। তাই, দল আমার জন্য যথেষ্ট সহায়ক।

সংবাদ পরিক্রমা: এ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট মাহবুব আলী এবারও দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে- এ নিয়ে আপনি কি বলবেন?
নিজামুল হক (রানা) :
তিনি বতমানে নির্বাচিত সংসদ সদস্য । এবারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি চাইতেই পারেন। মনোনয়ন দল দেবে। আমার পিতাও ৬ বারের এমপি ও একজন সফল মন্ত্রী ছিলেন। আশাকরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন। তবে প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য দলীয় প্রধান একজন জননন্দিত ও কর্মমুখী নেতাকে মনোনয়ন দেবেন বলে আমার বিশ্বাস এবং আমরা সকলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পালনে সচেষ্ট থাকব।

সংবাদ পরিক্রমা: চুনারুঘাট মাধবপুর তো প্রচুর বনজ সম্পদ রয়েছে এই সকল সম্পদ রক্ষায় আপনি কী উদ্যোগ নেবেন?
নিজামুল হক (রানা) :
দায়িত্ব পেলে সকলের মতামত নিয়েই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনজ সম্পদ রক্ষা ও নতুন করে বনায়ন করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

সংবাদ পরিক্রমা: আপনার নির্বাচনী এলাকার জনগণের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি আপনার সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কিছু বলুন?
নিজামুল হক (রানা):
আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে সুখে-দুঃখে সবসময় এ অঞ্চলের আওয়ামী পরিবারসহ সাধারণ জনগণের পাশে আছি। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখে চুনারুঘাট মাধবপুর সদরের আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। বিগত দিনের মতো এখনো বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আবার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী করার লক্ষ্যে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করছি। ‘আওয়ামী লীগের দুর্গ’ বলে খ্যাত চুনারুঘাট মাধবপুর আসনের দলীয় আসন ধরে রাখতে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি সবসময়।

সংবাদ পরিক্রমা: জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে তারা প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যান। আপনার ক্ষেত্রেও সেটি কতটা প্রয়োজ্য হতে পারে।
নিজামুল হক (রানা) :
আমি জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবো। সরাসরি তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হবো। তারা যাতে সরাসরি আমার কাছে জাবাবদিহিতা চাইতে পারে। আরো বেশি যে প্রত্যাশার জায়গা আছে সেটি পুরণ করতে চাই। নাগরিকরা যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকারটা ভোগ করতে পারে সেদিকে আমি বিশেষভাবে নজর দিতে চাই। মোট কথা জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।

সংবাদ পরিক্রমা: আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে জনগনের উন্নয়নে আপনার ভবিষৎ পরিকল্পনা কী?
নিজামুল হক (রানা) :
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সারাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে সেখানে দীর্ঘদিনের বঞ্চিত ও অবহেলিত জনপদ চুনারুঘাট-মাধবপুর এর প্রত্যাশিত উন্নয়ন করার জন্য একজন জনদরদী ও কর্মমুখী নেতা। তাই আমি আশা করি, আল্লাহ্ তালার রহমতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্নেহধন্য হয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে চুনারুঘাট মাধবপুর এলাকার জনসাধারণের কাঙ্ক্ষিত আর্থসামজিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ এবং তার দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে উৎসর্গ করব, ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

সংবাদ পরিক্রমা: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে সংবাদ পরিক্রমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ।
নিজামুল হক (রানা):
সংবাদ পরিক্রমার পাঠকদেরকে আমার শুভেচ্ছা। ধন্যবাদ।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*