Home / Breaking News / গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের মহানুভবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের মহানুভবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

কদুরখীল বোয়ালখালী চট্টগ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত ননী চৌধুরীর স্ত্রী বৃদ্ধা মহিলা আজ অসহায়।গুনধর পুত্র লিটন চৌধুরী ও কলংকীনি কন্যা বাপ্পী চৌধুরী জামাই অর্থপিচাশ বাবুল মল্লিককে ঘৃনা জানায়। গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের মহানুভবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।আর একেই বলে মানবতা।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন শান্তি চৌধুরী। সত্তর পেরিয়েছেন আরো দু’ এক বছর আগে। তার শরীর জুড়ে বলিরেখা। কথা অস্পষ্ট। চোখেও ঝাপসা দেখেন তিনি। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় প্রচণ্ড রোদের মধ্যে পিচঢালা পথে শুয়ে ভিক্ষা করছিলেন শান্তি। এ সময় যানজট নিরসনে রাস্তায় কাজ করছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। হঠাৎ করেই ভিক্ষুক শান্তি চৌধুরীর দিকে দৃষ্টি পড়ে তার।

শান্তি চৌধুরীর কাছে এগিয়ে যান শামসুন্নাহার। জানতে চান জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেন তাকে ভিক্ষা করতে হচ্ছে? কিছু সময় নীরব থাকেন শান্তি। পরে একের পর এক বলতে থাকেন তার জীবনের নানা ঘটনা।

শান্তির কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এসপি। পরম দরদ ও যত্মে পুলিশের একটি গাড়িতে করে এসপি তাকে পাঠিয়ে দেন গাজীপুর সদরের মণিপুর এলাকার গিভেন্সি গ্রুপের প্রতিষ্ঠিত বয়স্ক ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে। অবশেষে এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে।

গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার সমকালকে বলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখালী এলাকার ননী চৌধুরীর স্ত্রী শান্তি চৌধুরী। স্বামী প্রয়াত হয়েছেন বহু আগেই। শান্তি চৌধুরীর অর্থবিত্ত যা ছিল সব কিছু একদিন দিয়ে দেন মেয়ের জামাইকে। শর্ত ছিল জীবনের শেষ দিনগুলো যেন শান্তি চৌধুরী মেয়ের কাছে শান্তিতে থাকতে পারেন।

কিন্তু তা আর হয়নি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শান্তি চৌধুরীর শেষ দিনগুলো কাটছিল পিচঢালা পথে শুয়ে ভিক্ষা করে। দ্বিতীয় একটা পক্ষ শান্তিকে দিয়ে ভিক্ষা করাতো।

শান্তি চৌধুরী পুলিশকে জানিয়েছেন, তার একটি ছেলে আছে। নাম লিটন চৌধুরী। পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে একমাত্র মেয়ে বাপ্পী চৌধুরীর স্বামী বাবুল মল্লিককে জমাজমি যা ছিল সব বিক্রি করে টাকা দিয়ে দেন। শর্ত ছিল জীবনের শেষ দিনগুলো তাদের সান্নিধ্যে থাকবেন। সহায় সম্বল সব নেওয়ার পর বাড়ি থেকে শান্তিকে বের করে দেওয়া হয়। বেঁচে থাকার তাগিদে চলে আসেন গাজীপুর। বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, এক সময় তার সব ছিল। এখন কিছুই নেই। তবে ছেলে মেয়ে আছে। তারা তাকে ঠাঁই দেয়নি। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই যিনি তার কস্টার্জিত মেধা শ্রম ও অর্থ দিয়ে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করেছেন পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাই শত কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও যিনি অসহায় বৃদ্ধার প্রতি সু দৃষ্টি দিয়েছেন মাননীয় এস পি মহোদয়কে। সমাজের প্রতি টি গুরুত্ব পূর্ণ ব্যাক্তির এরুপ দৃস্টন্ত মুলক দৃষ্টি কামনা করি।
পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারকে তার মহানুভবতার জন্য স্যালুট।

টুটুল ভট্টাচার্য এর ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক হবে : তথ্যমন্ত্রী

সংবাদ পরিক্রমা: ক্যাসিনো থেকে চাঁদা নেয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ ...